কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে ঈদুল আজহার ছুটির সময় রাতের আঁধারে শত শত দোকান ও রেস্তোরাঁ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক দিনে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত চার শতাধিক অস্থায়ী দোকান স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝাউবাগান ও বালিয়াড়ির আরও অংশ দখল করে নতুন দোকান নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সুগন্ধা, কলাতলী এবং সিগাল হোটেল এলাকার সামনে ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন স্থানে এসব দোকান বসানো হয়েছে। দোকানগুলোতে শামুক-ঝিনুকের তৈরি পণ্য, কাপড়, রোদচশমা, আচার-প্রসাধনসামগ্রী, ভাজা মাছ, চা-কফি ও অন্যান্য খাবার বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ দোকানই ভ্যানের ওপর তৈরি করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
জানা যায়, কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতকে ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ওই ঘোষণার আওতায় জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত বালিয়াড়িতে স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া বালিয়াড়িতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে।
এর আগে গত ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে ৯৩০টির বেশি দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
পরবর্তীতে সৈকত পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, উচ্ছেদকৃত বালিয়াড়িতে যেন আর কোনো দোকান না বসে, সে বিষয়ে প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ নজরদারি রাখবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই নির্দেশনা অমান্য করেই ঈদের ছুটির সময় আবারও দখল কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য কক্সবাজার শাখার সভাপতি তৌহিদ বেলাল বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র আবার বালিয়াড়িতে দোকান বসিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সৈকতে পর্যটকদের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে এক দোকানকর্মী দাবি করেন, উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দোকান মালিকেরা উচ্চ আদালতে রিট করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে অনেকেই আবার নতুন করে দোকান বসাতে শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক বিচকর্মী জানান, ঈদের আগের রাত থেকে দোকান বসানো শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে শত শত দোকান স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে শত শত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, সৈকতে অবৈধ দোকানপাট পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে এবং অনেক পর্যটক সন্ধ্যা ও রাতে সৈকতে নামতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সিএ/এমই


