বগুড়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল রক্তের গ্রুপ প্রয়োগ ও চিকিৎসকের অবহেলায় আফরিন জাহান অহনা (১৯) নামের এক কিশোরী মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের খান্দার এলাকার ‘সুস্বাস্থ্য’ নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে।
শনিবার (৩০ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত অহনা বগুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপালশা চৌকিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য অহনাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়।
অহনার স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শুরুতেই রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে ভুল তথ্য দেয়। তাদের জানানো হয় অহনার রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা রক্ত সংগ্রহ করে তাকে দেন। রক্ত দেওয়ার পরই তার অবস্থার আরও অবনতি হয়।
পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) স্থানান্তর করা হলে সেখানে পুনরায় পরীক্ষায় দেখা যায় তার প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’। ভুল রক্ত দেওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ভুল রক্ত দিয়ে আর ডাক্তারদের অবহেলায় ওরা আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমরা এর বিচার চাই।
স্বামী মৃদুল ইসলাম বলেন, সুস্থ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন ছিল। চিকিৎসার অবহেলায় আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।
এদিকে ঘটনার পর থেকে ‘সুস্বাস্থ্য’ ক্লিনিকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএ/এমই


