নাটোরের লালপুরে একটি জুট মিলে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ৮৩ লাখ টাকার মালপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটি ইউনিয়নের শ্রীরামগাড়ী এলাকায় অবস্থিত ‘সাজিদ জুট মিলস’-এ এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পুরো মিলজুড়ে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুখে মাস্ক, হাফ প্যান্ট ও গেঞ্জি পরিহিত ৩৫-৪০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল জুট মিলের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ভেতরে থাকা কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পুরুষ ও নারী কর্মীদের আলাদা কক্ষে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ডাকাতরা মিলের বিভিন্ন গুদাম ও কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও মালপত্র লুট করে। লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ৬৩০ কেভিএ ট্রান্সফর্মার (আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা), সাব-স্টেশনের যন্ত্রাংশ (১৫ লাখ টাকা), প্রায় ৩৫ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক তার, ৪টি ব্যাটারি (১ লাখ ৬০ হাজার টাকা), ১৫টি ২৫ হর্স পাওয়ারের মোটর (১০ লাখ টাকা) এবং প্রায় ৬ লাখ টাকার খুচরা যন্ত্রাংশ। এছাড়া কর্মীদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় ২ লাখ টাকা নগদও নিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে তারা একটি ট্রাকে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর রবিবার মিলের স্বত্বাধিকারী সাজিদ মল্লিক বাদী হয়ে ৩৫-৪০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাজিদ মল্লিক বলেন, কর্মচারীদের হাত-পা খুলে দেওয়ার পর তারা আমাকে বিষয়টি জানায়। এই ঘটনায় আমরা সবাই আতঙ্কিত। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ডাকাতির মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় জানানো হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান চলছে
সিএ/এমই


