চীনের তীব্র সমালোচনা ও আপত্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তবতায় জাপান প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের পথ থেকে সরে আসবে না।
রোববার (৩১ মে) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনে জাপান ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে শান্তিবাদী নীতির অনুসারী হিসেবে পরিচিত জাপান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দেশটি আরও সক্রিয় ও আধুনিক সামরিক কৌশল গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে জাপানের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, টোকিও ‘নতুন সামরিকবাদ’-এর পথে হাঁটছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চীনের এ অভিযোগের জবাবে শিনজিরো কোইজুমি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাস্তবতা থেকে এর চেয়ে দূরে আর কিছু হতে পারে না। একটু ভেবে দেখুন—এমন একটি দেশ রয়েছে, যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র এবং কৌশলগত বোমারু বিমানের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। জাপানের কাছে এর কোনোটিই নেই। অথচ জাপানকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। এটা কি অদ্ভুত নয়?”
জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, এশিয়ায় সামরিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ হচ্ছে চীনের দ্রুত সামরিক আধুনিকায়ন। তিনি অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছাড়াই বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা জাপানের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে জাপান পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এরপর থেকেই টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে।
শিনজিরো কোইজুমি বলেন, জাপানের শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমালোচনায় ক্ষুণ্ন হবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশটি পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে সামরিক আধুনিকায়নের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), চালকবিহীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা এবং মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে জাপান বিশেষ গুরুত্ব দেবে। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসব প্রযুক্তিকে অপরিহার্য বলে মনে করছে টোকিও।
শাংরি-লা ডায়ালগে সাধারণত বিশ্বের ৪৫টির বেশি দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তবে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চীন এবার তুলনামূলকভাবে ছোট প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন সম্মেলনে অংশ নেননি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ে।
সিএ/এমই


