ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ওই সময় থেকেই অস্থায়ীভাবে ক্লাস কার্যক্রমও শুরু করা যাবে।
রবিবার (৩১ মে) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সফরে এসে সম্ভাব্য মেডিক্যাল কলেজের স্থান পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা শুধু ভবন নির্মাণ নয়, এর জন্য একাডেমিক ভবন, আধুনিক ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, হোস্টেল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসন, প্রশাসনিক ভবন, লাইব্রেরি এবং মানসম্মত হাসপাতাল প্রয়োজন। পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক ও জনবলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজি জানান, সাধারণভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তুলতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুরোনো ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পরিত্যক্ত ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে কলেজের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, এরই মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, গণপূর্ত বিভাগ এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে একটি দল পুরোনো হাসপাতাল ভবন পরিদর্শন করেছে। সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে তিনি জানান, আধুনিক একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তত ১২ থেকে ২০ একর জমি প্রয়োজন। জেলার কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কিছু মেডিক্যাল কলেজ পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই চালু হওয়ায় অবকাঠামোগত সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সেই ভুল আর পুনরাবৃত্তি করা হবে না। পরিকল্পিতভাবে একটি মানসম্মত মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে, যেখান থেকে দক্ষ ও মানবিক চিকিৎসক তৈরি হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। ডিজির এই সফর ও ২০২৭ সালের মধ্যে ভর্তি শুরুর আশ্বাসে জেলাবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
সিএ/এমই


