ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেউ যদি ঋণ শোধ না করে হজে যান, তাহলে তার হজ আদায় হবে কি না—এমন প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে আলেমরা বলছেন, হজের ফরজ ও শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হলে হজ শুদ্ধ হবে। তবে ঋণ পরিশোধে গাফিলতি করা গুরুতর গুনাহের কাজ।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হজের জন্য আর্থিক সামর্থ্য থাকা ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত। যদি কোনো ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করলে হজ করার সামর্থ্য হারান, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ হবে না। সেক্ষেত্রে আগে ঋণ পরিশোধ করাই তার দায়িত্ব।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, হজে ব্যয় হওয়া অর্থের উৎস বা ঋণগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি হজের শুদ্ধতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে কারও যদি ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করা বাধ্যতামূলক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তির টালবাহানা করা জুলুম।” (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫৬)
ইসলামে ঋণের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ, মানুষের অধিকার বা হক নষ্ট করা আল্লাহর কাছে বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করলেও অপরিশোধিত ঋণ ক্ষমা করা হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, “শহীদের সব গুনাহ মাফ করা হলেও ঋণ মাফ করা হয় না।” (সহিহ মুসলিম: ৪৯৯১)
আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, “কারও কাছে যদি তার ভাইয়ের কোনো পাওনা থাকে, তবে কেয়ামতের আগেই তা পরিশোধ করে নেওয়া উচিত। কারণ, সেদিন টাকা-পয়সা থাকবে না; বরং সওয়াব ও গুনাহের মাধ্যমে হিসাব নেওয়া হবে।” (সহিহ বুখারি: ৬৫৩৪)
আলেমরা বলছেন, অনেকেই নফল হজ বা একাধিকবার হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, অথচ দেনা-পাওনার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের হক আদায় করা এবং ঋণ পরিশোধে আন্তরিক হওয়াই একজন মুসলমানের দায়িত্বশীল আচরণের অংশ। তাই হজের আগে ঋণমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করাই উত্তম।
সিএ/এমআর


