নামাজে কোরআনের বিভিন্ন সুরা বা ভিন্ন স্থানের আয়াত একত্র করে তিলাওয়াত করা যাবে কি না—এমন প্রশ্ন অনেক মুসল্লির মধ্যেই রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দোয়া বা বিষয়ভিত্তিক আয়াত সংকলনের বই থেকে নামাজে তিলাওয়াতের বিষয়ে ইসলামি বিধান জানতে চান অনেকে।
এ বিষয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একই রাকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোরআনের বিভিন্ন স্থান থেকে তিলাওয়াত করা মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজি (সা.) নামাজে এভাবে তিলাওয়াত করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। বর্ণিত আছে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখতে পান, বিলাল (রা.) একই রাকাতে বিভিন্ন সুরা থেকে আয়াত তিলাওয়াত করছেন। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিলাল (রা.) বলেন, তিনি একটি উত্তম আয়াতের সঙ্গে আরেকটি উত্তম আয়াত মিলিয়েছেন।
তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “না, সুরা যেভাবে আছে সেভাবেই পড়।” (ফাজাইলুল কোরআন, আবু উবাইদ পৃষ্ঠা-৯৫)
ফকিহদের মতে, এ ধরনের হাদিসের আলোকে একই রাকাতে বিভিন্ন স্থান থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আয়াত তিলাওয়াত করাকে মাকরুহ বলা হয়েছে।
তবে তারাবিহ নামাজে কোরআন খতম করার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। রমজানে খতম সম্পন্ন করার প্রয়োজনে যদি কোনো আয়াত বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরবর্তীতে তা একত্র করে পড়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তা মাকরুহ হিসেবে গণ্য হবে না।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, নামাজে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে কোরআনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উত্তম এবং সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করাই বেশি উপযোগী।
সিএ/এমআর


