উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শুক্রবার প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও নদীর পানি ধীরগতিতে কমছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপৎসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় হাওরের ফসলি জমি পানির নিচে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদীর জগন্নাথপুর পয়েন্টে পানি এক সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনায় ধনু-বাউলাই নদীর খালিয়াজুরি পয়েন্টে পানি তিন সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার সাত সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। একই জেলায় সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া ভুগাই-কংশ নদীর জারিয়াজঞ্জাইল পয়েন্টে পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মগরা নদীর নেত্রকোনা পয়েন্টে পানি ছয় সেন্টিমিটার কমে ৭৯ সেন্টিমিটার এবং আটপাড়া পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার কমে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে পানি ১৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সুতাং নদীর রেলসেতু পয়েন্টে পানি ২০ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের নদীগুলোর পানির উচ্চতা ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে কমছে।
তবে নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকায় হাওর এলাকার নিচু জমি ও ধানক্ষেত নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
সিএ/এমআর


