জিবে জ্বালাপোড়া, চেরার মতো দাগ কিংবা ঝাল-টক খাবার খেলেই অস্বস্তি—এ ধরনের সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত। কখনো এটি সাময়িক হলেও অনেক ক্ষেত্রে শরীরের পুষ্টিঘাটতি, হরমোনজনিত পরিবর্তন, সংক্রমণ কিংবা বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। তাই বিষয়টিকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জিব ফেটে যাওয়া জন্মগত বা বংশগত কারণেও হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গেলে কিংবা লালাগ্রন্থির জটিলতা ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এ সমস্যা বাড়তে পারে।
শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি১২, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, জিংকসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলেও জিব লাল, মসৃণ বা ফাটা হয়ে যেতে পারে। যাঁরা অনিয়মিত খাবার খান, অতিরিক্ত ডায়েট করেন বা অপুষ্টিতে ভোগেন, তাঁদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর কিংবা মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, স্বাদের পরিবর্তন এবং জিবে জ্বালা বা সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে। অনেক নারী মাসিক চলাকালে মুখে ঘা বা জিবে ব্যথার সমস্যায়ও ভোগেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা, রক্তশূন্যতা, গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স, কিডনি ও লিভারের কিছু জটিলতা, অটো ইমিউন রোগ কিংবা সোরিয়াসিসের কারণেও জিবে ফাটল ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অনিদ্রাও এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলতে পারে।
এ ছাড়া মুখে ছত্রাক সংক্রমণ, দাঁতের ধারালো অংশ, ভাঙা দাঁত, ত্রুটিপূর্ণ কৃত্রিম দাঁত, অতিরিক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার, ধূমপান, পান-জর্দা, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ঝাল খাবারও জিবের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে টুথপেস্ট বা কসমেটিক পণ্যের অ্যালার্জিতেও জিবে জ্বালা দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কিছুদিন ঝাল, টক ও অতিরিক্ত গরম খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বন্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ও জিব পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, মাছ, দুধ, ফলমূল, শাকসবজি ও বাদাম খাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সমস্যা থাকলে, খেতে কষ্ট হলে, মুখে সাদা বা লাল দাগ দেখা দিলে, রক্ত পড়লে কিংবা দ্রুত ওজন কমতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


