কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার একটি স্কুলে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার আগে হামলাকারী চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সহিংসতামূলক বিভিন্ন আলাপ করলেও তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি।
গত বুধবার গুরুতর আহত ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মায়া গেবালারের পরিবার মামলাটি করে। আরও কয়েক ডজন পরিবার একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো একটি জনপদ এ ঘটনার জন্য ওপেনএআইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে চায়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের জুনে ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় হামলাকারীর কিছু উদ্বেগজনক কথোপকথন শনাক্ত হয়। নিরাপত্তা দলের সদস্যরা বিষয়টিকে তাৎক্ষণিক ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশকে জানানোর সুপারিশ করলেও তা শীর্ষ পর্যায়ে গৃহীত হয়নি। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও হামলাকারী নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে আবার প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে একাধিক শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষা সহকারী নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। পুলিশের তথ্যমতে, ১৮ বছর বয়সী জেসি ভ্যান রুটসেলার প্রথমে নিজ বাড়িতে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পরে স্কুলে হামলা চালায় এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করে।
ওপেনএআই এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সহিংস কর্মকাণ্ডে তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে তারা কঠোর নীতি অনুসরণ করে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এক চিঠিতে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং হামলাকারীর অনলাইন আচরণ আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
সিএ/এমআর


