গোসলের সঠিক সময় নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিমত রয়েছে। কেউ সকালে গোসল সেরে দিন শুরু করতে পছন্দ করেন, কেউ আবার সারা দিনের ক্লান্তি ধুয়ে রাতে গোসল করেন। কিন্তু বিজ্ঞান এই বিতর্কে কী বলছে, সেটি জানা জরুরি।
গোসল মূলত সারা দিনে শরীরে জমে ওঠা ঘাম, ধুলা-ময়লা ও ত্বক থেকে নিঃসৃত তেল দূর করে। রাতে গোসল না করলে এসব ময়লা বিছানার চাদর ও বালিশে মিশে যায়। এক বর্গসেন্টিমিটার ত্বকে ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে। এগুলো ঘামগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত তেল খেয়ে বাঁচে এবং স্ট্যাফিলোকক্কাসের মতো ব্যাকটেরিয়া সালফারযুক্ত যৌগ তৈরি করে, যা শরীরে দুর্গন্ধের কারণ হয়।
তবে যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, রাতে গোসল সেরে ঘুমাতে গেলেও সারা রাত ঘাম হয়। শীতল আবহাওয়াতেও একজন মানুষ ঘুমের মধ্যে ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘাম ঝরান এবং ৫০ হাজারেরও বেশি মৃত কোষ উৎপন্ন হয়, যা মাইট ও জীবাণুর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীরে দুর্গন্ধ হতে পারে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার অধিকারীদের, বিশেষত অ্যাজমা বা ক্রনিক ফুসফুস রোগে আক্রান্তদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।
রাতে গোসলের একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ভালো ঘুম। ১৩টি গবেষণার ফলাফল তুলনা করে করা একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘুমানোর এক বা দুই ঘণ্টা আগে ১০ মিনিট ধরে উষ্ণ পানিতে গোসল করলে ঘুম দ্রুত আসে। ঘুমের আগে শরীরের সারকাডিয়ান রিদম বা জৈবছন্দ শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের জন্য প্রস্তুতির সংকেত হিসেবে কাজ করে এবং উষ্ণ পানিতে গোসল এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
অন্যদিকে সকালে গোসলের সমর্থকরা মনে করেন, এতে রাতভর জমে ওঠা ঘাম ও জীবাণু ধুয়ে সতেজ হয়ে দিন শুরু করা যায়। ঈষদুষ্ণ পানিতে সকালের গোসল আলস্য কাটিয়ে কাজের উদ্দীপনা তৈরি করে বলেও অনেকে মত দেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে গোসলের চেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ হলো নিয়মিত বিছানার চাদর পরিবর্তন করা। শুধু নিয়মিত চাদর পরিষ্কার করলেই রাতের গোসলের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসুবিধা পাওয়া সম্ভব। মোটকথা, গোসলের সঠিক সময় নির্ভর করে ব্যক্তির পরিবেশ, ত্বকের ধরন ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।
সূত্র: বিবিসি
সিএ/এমআর


