শরীরের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। দেহের টিস্যু গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া পেশি গঠন, এনজাইম, হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতেও প্রোটিন অপরিহার্য।
প্রোটিনের অভাব হলে শরীরে দ্রুত ক্লান্তি দেখা দেয় এবং ক্ষুধা বারবার ফিরে আসে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে চুল পড়া, ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং শরীরে পানি জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যায়।
অনেকদিন ধরে প্রচলিত ধারণা ছিল, ব্যায়ামের ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন গ্রহণ না করলে পেশি গঠনে সমস্যা হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের পরপরই বা কয়েক ঘণ্টা পরে প্রোটিন গ্রহণের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে সারাদিনে মোট কতটুকু প্রোটিন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশি গঠন ও পুনরুদ্ধার স্বাভাবিকভাবে ভালো হয়।
প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে সারাদিনে ভাগ করে খাওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। প্রতিটি প্রধান খাবারে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখা হলে তা শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বয়স ৪০ পার হওয়ার পর পেশির শক্তি কমতে শুরু করে। তাই এ বয়সের পর প্রোটিন গ্রহণের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা এবং রাতে ধীরে হজম হয় এমন প্রোটিন গ্রহণ পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক।
প্রোটিনের উৎস হিসেবে চর্বিহীন মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল ও বাদাম রাখা উচিত। ব্যক্তির ওজন, বয়স ও শারীরিক কার্যক্রম অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সঠিক পরিমাণে ও নিয়ম মেনে প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং পেশি শক্তিশালী হয়।
সিএ/এমআর


