ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা আকাশপথের হামলার মাধ্যমে কার্যত সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলা সত্ত্বেও এসব ঘাঁটির বড় অংশ দ্রুত পুনরায় সচল করে সামরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।
সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্র এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বলা হয়, ব্যাপক বোমাবর্ষণেও ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ নেটওয়ার্ক দ্রুত পুনর্গঠন করছে। এতে পেন্টাগনসহ পশ্চিমা সামরিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশপথ থেকে কেবল প্রবেশপথ বা সংযোগ সড়ক ধ্বংস করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয়। বরং এসব হামলা সাময়িকভাবে চলাচল সীমিত করলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ফল পাওয়া যায় না।
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯টি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ প্রবেশপথের মধ্যে অন্তত ৫০টি ইরান ইতিমধ্যে পুনরায় চালু করেছে। এসব পুনরুদ্ধার কাজে বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ নির্মাণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইসফাহানসহ একাধিক ঘাঁটিতে বোমা হামলায় তৈরি হওয়া গর্ত ভরাট এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চিত্রও স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। কিছু স্থানে নতুন করে রাস্তা পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো তৈরি করেছে, যা শত শত মিটার পাথরের নিচে অবস্থিত। ফলে এগুলো লক্ষ্য করে আকাশপথের হামলা পরিচালনা করা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার বলেন, “শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করলেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল না থাকলে সাময়িক সাফল্য এলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো এতটাই বিস্তৃত যে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা পুরোপুরি অকার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এসব ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ গড়ে তুলেছে, যা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাকে আকাশপথের হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়। এসব স্থাপনার অনেক অংশ শত শত মিটার গভীর পাথরের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেগুলো ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন।
তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বেশিরভাগ প্রবেশপথ ইতিমধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অবকাঠামোও দ্রুত মেরামতের পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, ইরানের কাছে বর্তমানে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণ সক্ষমতাকে বজায় রাখছে।
সিএ/এমই


