জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকেই শুক্র ধীরে ধীরে আকাশে ওপরে উঠতে থাকবে এবং বৃহস্পতি তুলনামূলক নিচের দিকে নামবে। এর ফলে ৮ ও ৯ জুন সন্ধ্যায় দুটি গ্রহ একে অপরের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছাবে। সূর্যাস্তের ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম আকাশে তাকালেই এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। মিথুন নক্ষত্রপুঞ্জের আশপাশে শুক্রকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখা যাবে, আর তার কাছেই থাকবে বৃহস্পতির সোনালি আভা।
এ সময় আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হবে বুধ গ্রহের দৃশ্যমানতা। সাধারণত সূর্যের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে বুধকে খালি চোখে দেখা কঠিন হলেও জুনের প্রথম ১৫ দিন সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য অনুকূল সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৫ জুন বুধ সূর্য থেকে সর্বোচ্চ কৌণিক দূরত্বে অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর পশ্চিম দিগন্তের নিচের অংশে উজ্জ্বল তারার মতো দেখা যাবে গ্রহটিকে।
১২ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে পশ্চিম আকাশে তৈরি হবে একটি দৃষ্টিনন্দন গ্রহসারি। নিচ থেকে ওপরে ক্রমান্বয়ে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রকে একই রেখায় অবস্থান করতে দেখা যাবে। ১৫ জুনের দিকে এদের সঙ্গে যোগ দেবে সরু আকৃতির নতুন চাঁদ, যা আকাশ আলোকচিত্রীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভোরের আকাশেও থাকবে চমক। শনি গ্রহ দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বেশ উঁচুতে অবস্থান করবে এবং সাধারণ টেলিস্কোপে এর বলয়ের বাঁকও পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। মঙ্গল গ্রহ থাকবে পূর্ব দিগন্তের কাছাকাছি এবং সূর্যোদয়ের আগে এর লালচে আভা স্পষ্ট দেখা যাবে।
১৫ জুন সংঘটিত হবে সুপার নিউ মুন বা বিশেষ অমাবস্যা। এ সময় চাঁদ পৃথিবীর তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে। চাঁদের আলো না থাকায় রাতের আকাশ হবে আরও অন্ধকার, ফলে গ্রামাঞ্চল বা আলোদূষণমুক্ত এলাকা থেকে আকাশগঙ্গা, এম৮ নেবুলা ও ট্রাইফিড নেবুলার মতো মহাজাগতিক বস্তু পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির পরপরই আকাশ সাধারণত বেশি স্বচ্ছ থাকে। তাই ৮ ও ৯ জুন সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে নজর রাখলে শুক্র ও বৃহস্পতির এই বিরল নৈকট্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
সিএ/এমআর


