প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রগতিতে একুশ শতক মানুষের জীবনে এনেছে বড় পরিবর্তন। তবে সব ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। গত ২৫ বছরে এমন অনেক আইডিয়া এসেছে, যেগুলো শুরুতে ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও পরে ব্যর্থতা, সীমাবদ্ধতা কিংবা বিতর্কের কারণে গুরুত্ব হারিয়েছে।
ভার্চ্যুয়াল জগত তৈরির ধারণা ‘মেটাভার্স’ একসময় প্রযুক্তি দুনিয়ায় বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। ব্যবহারকারীরা ভার্চ্যুয়াল চরিত্রের মাধ্যমে কাজ ও সামাজিক যোগাযোগ করবে—এমন পরিকল্পনা থাকলেও জটিলতা ও ব্যবহারকারীর অনাগ্রহের কারণে তা জনপ্রিয়তা পায়নি। একইভাবে দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা ‘হাইপারলুপ’ ধারণাটিও প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ব্যয়ের কারণে বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়ে।
স্বাস্থ্য প্রযুক্তিতে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল থেরানোস কোম্পানি। এক ফোঁটা রক্তে শত রোগ শনাক্তের দাবি পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বড় কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে থ্রি-ডি প্রিন্টারের মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির ধারণা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করায় বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার মুখে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কিছু সিদ্ধান্ত বিতর্ক তৈরি করেছে। ফেসবুকের লাইক বাটন মানুষের মধ্যে আসক্তি ও মানসিক চাপ বাড়ায়—এমন গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একইভাবে ব্যবহারকারীদের অজান্তে নিউজফিড পরিবর্তন করে মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা চালানো নিয়েও সমালোচনা হয়।
ব্যক্তিগত পরিবহনের ক্ষেত্রে ‘সেগওয়ে’কে ভবিষ্যতের যান হিসেবে প্রচার করা হলেও তা জনপ্রিয়তা পায়নি। ‘গুগল গ্লাস’ নামের স্মার্ট চশমা প্রযুক্তিও গোপনীয়তা উদ্বেগের কারণে বাজারে টিকতে পারেনি।
ডিজিটাল শিল্পে এনএফটি একসময় ব্যাপক আলোচনায় থাকলেও দ্রুতই এর মূল্য কমে যায়। ভিডিও গেমে ‘লুট বক্স’ ব্যবস্থাকে জুয়ার মতো আসক্তি তৈরির অভিযোগে সমালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে বলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
এছাড়া ‘মার্স ওয়ান’ প্রকল্পের মাধ্যমে মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবতার মুখে টিকতে পারেনি। একইভাবে ‘পাওয়ার পোজিং’ বা ভঙ্গির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির ধারণাটিও পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি। খাদ্যপণ্যে ‘স্বাস্থ্যকর’ লেবেল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তির অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাস
সিএ/এমআর


