শরিয়তসম্মত কারণে রমজানের রোজা ভঙ্গ হলে পরে তা কাজা করা বাধ্যতামূলক। অসুস্থতা, সফর, ঋতুস্রাব কিংবা গর্ভকালীন ও দুগ্ধদানকালীন অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করার নির্দেশ রয়েছে।
তবে বাস্তবে অনেকেই অজ্ঞতা, অলসতা বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণে সময়মতো কাজা আদায় করতে পারেন না। এমনকি এক রমজানের কাজা শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী রমজান চলে আসে।
ইসলামি আইন অনুযায়ী, কাজা রোজা আদায়ে বিলম্ব দুইভাবে বিবেচিত হয়। যদি কোনো বৈধ কারণ যেমন দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকে, তাহলে বিলম্বের জন্য ব্যক্তি গুনাহগার হবেন না। সুস্থ হওয়ার পর কেবল কাজা আদায় করলেই দায়মুক্তি হবে।
অন্যদিকে, সক্ষম থাকা সত্ত্বেও অবহেলা বা অলসতার কারণে কাজা বিলম্ব করলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়। তবে এ ক্ষেত্রেও কাজা আদায় করা বাধ্যতামূলক থাকে।
ফকিহদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। হানাফি মত অনুযায়ী, বিলম্ব যেকোনো কারণেই হোক, কেবল কাজা আদায় করাই যথেষ্ট। অন্যদিকে ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আহমদের মতে, বিনা কারণে বিলম্ব হলে কাজার পাশাপাশি প্রতিটি রোজার জন্য একজন অভাবীকে খাবার দেওয়াও উত্তম।
যাঁরা বার্ধক্য বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে অক্ষম, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে একজন অভাবীকে খাবার দেওয়ার বিধান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইসলাম মানুষের সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব দেয় না। তাই অসুস্থ বা দুর্বলদের জন্য বিধানগুলো সহজ ও নমনীয় রাখা হয়েছে।
সিএ/এমআর


