শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা এলাকায় চিংড়িঘের দখলকে কেন্দ্র করে ঘের মালিককে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, সশস্ত্র একটি দল ভোররাতে ঘেরে হানা দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশের খালে হত্যা করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত ব্যক্তি মনজুর আলম প্রকাশ কালু (৫০)। তিনি ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ভোররাত আড়াইটার দিকে মালুমঘাটের বড় ডুমখালী ঘোনা এলাকার চিংড়িঘেরে সশস্ত্র লোকজন হানা দেয়। তারা ঘের মালিক মনজুর আলমকে ধাওয়া করে ধরে পাশের খালে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক মারধরের পর পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
নিহতের ভাই জামাল হোসাইন জানান, তাদের চার একরের একটি চিংড়িঘের দখলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এর আগে ঘেরে হামলা চালিয়ে উৎপাদিত চিংড়ি ও বিভিন্ন মাছ লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রমজান আলীর নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল আবারও ঘের দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের পোশাক সদৃশ জ্যাকেট ব্যবহার করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং পরে মনজুর আলমকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
অভিযোগের বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘেরের কাছের খালের পাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ সময় মরদেহের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর নিয়মানুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ করেছে। কোনো দুর্বৃত্ত পুলিশের পোশাক পরিহিত ছিল কী-না তাও খতিয়ে দেখে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এএ


