রান্নায় তেল ব্যবহারের বিষয়ে মানুষের সচেতনতা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই তেলের পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণ তেল বাদ দেওয়ার কথাও ভাবছেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, তেল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং পরিমিত পরিমাণে তেল ব্যবহারই শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক বাঙালি সর্ষের তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। ঐতিহ্যবাহী খাবারেও এখন অলিভ অয়েল ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের ধারণা থেকে।
তবে পুষ্টিগুণের বিচারে সর্ষের তেলও কম নয়। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।
অনেকের ধারণা, সর্ষের তেল কোলেস্টেরল বাড়ায়। কিন্তু বাস্তবে এতে ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের উপস্থিতি বেশি এবং ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে পরিমিত পরিমাণে সর্ষের তেল গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
এ ছাড়া সর্ষের তেলে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ রান্নায় অলিভ অয়েলের পাশাপাশি সর্ষের তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
সব মিলিয়ে, তেল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক তেল নির্বাচন এবং পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


