নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাছ ধরার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ শহিদুল (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবির (ক্যাম্প-১৬) এফ–৫ ব্লকের বাসিন্দা ও চান মিয়ার ছেলে। বিস্ফোরণে তাঁর ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়।
বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শহিদুল আশ্রয়শিবির থেকে অবৈধভাবে বের হয়ে কয়েকজন জেলের সঙ্গে নাফ নদীর শূন্যরেখায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। একপর্যায়ে সেখানে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত শহিদুলকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলা তিনটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা দ্বীপ ও সীমান্তের শূন্যরেখায় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এসব এলাকায় মাছ ধরতে নামলে জেলেরা মাইন বিস্ফোরণে আহত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ৯ মার্চ উখিয়া সীমান্তে নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে মো. শাকের (২৫) নামের আরেক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ১২ জানুয়ারি টেকনাফের হোয়াইক্যাং সীমান্তে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা উড়ে যায়।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজালাল জানিয়েছেন, মাইন বিস্ফোরণের আতঙ্কের কারণে কয়েক হাজার বাংলাদেশি জেলে বর্তমানে নাফ নদীতে মাছ ধরতে পারছেন না।
সিএ/এমই


