ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধর্মীয় উৎসাহ ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে অষ্টমী গঙ্গাস্নান। পুণ্যলাভ ও পাপমোচনের আশায় তিতাস নদীর তীরে ভিড় করেন হাজারো ভক্ত ও পুণ্যার্থী।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট এলাকায় তিতাস নদীর তীরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা সমবেত হন। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই স্নান উৎসবের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভক্তরা স্নানপর্ব সম্পন্ন করেন।
গঙ্গাস্নান শেষে বিশিষ্ট পাঠক নিত্যগোপাল চক্রবর্তী নিতাই বলেন,
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে জরাদেহের পাপমোচন হয়। যেখানে ভক্তি সহকারে ভক্তরা সমবেত হন, সেখানে ভগবান বিরাজমান থাকেন। এই বিশ্বাস থেকে ভক্তরা গঙ্গা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ফুল, বেল পাতা ও ফলফলাদি নিয়ে তিতাসের পাড়ে সমবেত হয়েছেন।
স্নানে অংশ নেওয়া সীমা রানী দাস বলেন, ‘গঙ্গাস্নানের মধ্য দিয়ে আমি নিজের এবং পরিবারের জন্য মঙ্গলকামনা করেছি। প্রার্থনাকালে দেশের মানুষের কল্যাণে শান্তি কামনা করেছি।’
দীপ্তি সাহা নামের আরেক পুণ্যার্থী বলেন, ‘তিতাস নদীর পবিত্র জলে স্নানের মধ্য দিয়ে ভগবানের কাছে পাপমুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। তিনি সকলের জন্য মঙ্গল করেন, সেই প্রার্থনাও করেছি।’
তবে আয়োজনে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। দীপ্তি সাহা অভিযোগ করেন, ‘বখাটেদের তৎপরতা কমানো গেলে নারীদের জন্য গঙ্গাস্নানের পরিবেশটা আরও ভালো হতো।’
স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটির সভাপতি রতন রায় কর্মকার বলেন, ‘এত বড় গ্যাদারিংয়ের মধ্যে পুলিশের টহল থাকলে ভালো হতো। মা-বোনসহ ভক্ত-পুণ্যার্থীরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে মেলায় ঘোরাফেরা করতে পারতেন।’
পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গঙ্গাস্নান উপলক্ষে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আজ আমাদের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। তাই বিষয়টি আমরা অবগত নই। অবগত হলে পুলিশের ব্যবস্থা করা যেত।’
অষ্টমীস্নানকে কেন্দ্র করে তিতাস নদীর তীরে বসেছে লোকজ মেলা। সেখানে নাগরদোলা, মাটির খেলনা ও বিভিন্ন ধরনের খাবারের পসরা সাজানো হয়েছে। এতে অংশ নিতে পেরে যেমন আনন্দিত ভক্তরা, তেমনি বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট বিক্রেতারাও।
সিএ/এমআর


