ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দিনের তুলনায় বিকেলে যানবাহনের চাপ কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) বিকেলের পর স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম যানবাহন চলাচল করায় ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা তুলনামূলক নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পেরেছেন।
ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়কজুড়ে সকাল থেকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ছিল। চাপ সামাল দিতে সকালে ও বিকেলে দুই দফায় যমুনা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য ঢাকাগামী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন যমুনা সেতু পার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। এই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা।
মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের প্রায় ৬৫ কিলোমিটারজুড়ে আগের দিন থেকে যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও কোথাও দীর্ঘস্থায়ী যানজট তৈরি হয়নি। তবে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়েছে।
যানজট নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যান চলাচল বন্ধ রেখে উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন পার করা হয়। এতে সেতুর পূর্ব প্রান্তে চাপ কমে আসে। পরে বিকেলে আবার চাপ বাড়লে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট থেকে একই পদ্ধতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ নেই এবং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম যান চলাচল করছে। পাবনাগামী একটি মাইক্রোবাসের চালক মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে এলেঙ্গা পৌঁছেছেন, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম সময়।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ বলেন, ‘বিকেলে যানবাহনের চাপ কমে এসেছে। সড়কে নির্বিঘ্নে যান চলাচল করছে।’
টোল প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাগামী ১৮ হাজার ৭৪৪টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে, এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫০ টাকা। একই সময়ে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৮৪০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ টাকা।
যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সেতুর দুই পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য দুই প্রান্তে ২টি করে পৃথক বুথ রাখা হয়েছে।
সিএ/এমই


