ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ( ৫ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুর নাম মরিয়ম আক্তার (৪)। সে মারুয়াখালি গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তারের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা ১টার পর থেকে তাকে আর কোথাও দেখা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় দিনভর খোঁজাখুঁজি চালান। সন্ধ্যার আগে প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে খোঁজ নিতে গিয়ে চুলার ভেতরে মরদেহটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই বাড়ির মালিক ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘কিশোরটি নেশাগ্রস্ত। শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মরিয়ম আক্তারের গলায় প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি রুপার চেইন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নেশার টাকা জোগাড় করতে ওই কিশোর চেইনটি ছিনিয়ে নিতে চায়। এ সময় শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে মরদেহটি রান্নার চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে চেইনটি আঠারবাড়ি বাজারের একটি দোকানে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আজম বলেন, ‘শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেইনের জন্য হত্যার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কিশোরকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’ তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সিএ/এমই


