গিজার বিশাল পিরামিডগুলো আদৌ কি প্রাচীন মিশরের ফারাওদের তৈরি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আরও প্রাচীন কোনো অজানা সভ্যতার হাত—এমন প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে এক গবেষণায়। একদল গবেষক দাবি করছেন, এই স্থাপনাগুলোর বয়স প্রচলিত ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে এবং এগুলো হয়তো হাজার হাজার বছর আগে কোনো উন্নত সভ্যতা নির্মাণ করেছিল।
স্পেনের অটোনমাস ইউনিভার্সিটি অব বার্সেলোনার স্বতন্ত্র গবেষক আন্তোনিও আমব্রোসিওর মতে, গিজার তিনটি প্রধান পিরামিডের বয়স প্রায় ১২ হাজার বছর হতে পারে। তার দাবি, এই সময়কাল প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার উদ্ভবেরও বহু আগের, যা ইতিহাসের প্রচলিত ধারনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, গিজার পিরামিডগুলোর প্রকৌশলগত নিখুঁততা, জ্যামিতিক বিন্যাস এবং মহাজাগতিক তারাপুঞ্জের সঙ্গে সাদৃশ্য এমন পর্যায়ের, যা পরবর্তী মিশরীয় পিরামিডগুলোতে দেখা যায় না। পরবর্তী সময়ে নির্মিত ছোট পিরামিডগুলোর গঠনগত ত্রুটি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি এ পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে।
আমব্রোসিওর যুক্তি অনুযায়ী, গিজার পিরামিডগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো মমি বা সমাধির উপকরণ পাওয়া যায়নি, যদিও এগুলোকে খুফু, খাফরে ও মেনকাউরের সমাধি বলে মনে করা হয়। তার মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ফারাওরা হয়তো এই স্থাপনাগুলো নিজেরা নির্মাণ না করে পূর্বে নির্মিত স্থাপনাকে নিজেদের বলে দাবি করেছিলেন।
এছাড়া স্ফিংস মূর্তিতে বৃষ্টিজনিত ক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা এমন এক সময়ের ইঙ্গিত দেয় যখন মিশরে ভারী বৃষ্টিপাত হতো। গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার আগের সময়ের দিকেই নির্দেশ করে।
যদিও এই গবেষণাটি এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই হয়নি, তবুও এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গিজার পিরামিডের মতো বিশাল পাথুরে স্থাপনার সন্ধান পাওয়া গেছে। পেরুর সাকসাহুয়ামান ও লেবাননের বালবেকের মতো স্থাপনাগুলোর সঙ্গে এর মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গবেষকরা আরও বলেন, প্রাচীন মিশরীয়দের ‘জেপ টেপি’ ধারণা, যা একটি স্বর্ণযুগকে নির্দেশ করে, সেটি হয়তো বাস্তব কোনো প্রাচীন উন্নত সভ্যতার স্মৃতি হতে পারে। এই সভ্যতা হয়তো জ্যামিতি ও মহাজাগতিক জ্ঞানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনায় তাদের জ্ঞান রেখে গেছে।
তবে মূলধারার অনেক গবেষক এখনো প্রচলিত ধারণাকেই সমর্থন করেন এবং পিরামিডগুলোকে প্রাচীন মিশরীয়দেরই নির্মাণ বলে মনে করেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সিএ/এমআর


