চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঝড়ে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং শতাধিক গাছ উপড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়।
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার হারদী ইউনিয়নের উদয়পুর ও বারাদী ইউনিয়নের কাটাভাঙ্গা গ্রামে এই ঝড় আঘাত হানে।
নিহত ব্যক্তি আকমান আলী মণ্ডল (৫০), তিনি উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোরিকশাচালক। ঝড়ের সময় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে তাঁর শরীরের ওপর পড়ে, এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন কাটাভাঙ্গা গ্রামের মোশারফ হোসেন (৫৫) ও ইকতার হোসেন (৪০)। তাঁদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক দল কাজ করছে। তারা ভেঙে পড়া গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা-পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করছেন।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা ও শুকনা খাদ্য বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘গতকাল রাত ১০টার দিকে মুসল্লিরা তারাবিহর নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন, আবার কোথাও নামাজ চলছিল। এ সময় আকস্মিক ঝড়ের আঘাতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ শুরু করেছে।
সিএ/এমই


