গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় রাতভর বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈদে ঘরমুখী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমে থেমে সারা রাত অব্যাহত থাকে। এর প্রভাবে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যানবাহনের গতি কমে যায়। একপর্যায়ে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে তিনটি দিকে গাড়ির দীর্ঘ সারি। চন্দ্রা-নবীনগর এবং চন্দ্রা-কোনাবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশেও ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। এছাড়া চন্দ্রা থেকে নবীনগরের জিরানী বাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমে আসা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক স্থানে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।
ঘরমুখী যাত্রীরা জানান, কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে। যাঁদের নির্ধারিত বাস ছিল না, তাঁদের অনেকে ট্রাক বা পিকআপ থেকে নেমে কিছু দূর হেঁটে আবার অন্য যানবাহনে উঠছেন।
রাজশাহীগামী যাত্রী আবদুল মালেক বলেন, ‘কোনাবাড়ী থেকে রাত ১২টার দিকে বাসে উঠেছি। ভোর চারটায় চন্দ্রা এসে সাহ্রি খেয়ে আবার বাসে উঠেছি। কিন্তু সকাল ৯টা হয়ে গেলেও খুব বেশি দূর যেতে পারিনি।’
বগুড়াগামী যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, ‘ছোট বাচ্চা নিয়ে বাসে বসে থাকা খুব কষ্টের। না আছে ঠিকমতো খাবার, না আছে বিশ্রামের সুযোগ।’
পাবনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি ঈদেই এই সড়কে এমন দুর্ভোগ হয়। এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছি।’
পরিবহনচালকেরাও এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। আর কে ট্রাভেলের বাসচালক মাহফুজ রহমান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কোথাও পুলিশ নেই। এই সুযোগে যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো চলাচল করছে। এ কারণে যানজট আরও বেড়েছে।’
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘রাত থেকেই আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল পর্যন্ত চাপ বেশি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
সিএ/এমই


