মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে বারুণী স্নান উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই আরিচা ঘাট এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ভক্তরা স্নান অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এই আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলাও।
হিন্দু সম্প্রদায়ের এ ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতি ও স্থানীয় শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় নানা কার্যক্রম। দিনভর যমুনার তীরে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে আরিচার বারুণী স্নান। প্রতি বছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্তের আগমন ঘটে। এ ছাড়া ভারতের কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকেও অনেকে এই স্নানে অংশ নিতে আসেন। ধর্মীয় আচার ছাড়াও এই আয়োজন এখন একটি বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
বারুণী স্নান উপলক্ষে আরিচা ঘাটসংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে বসেছে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা। সাধারণত তিন দিন স্থায়ী হলেও অনুকূল পরিবেশে মেলার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ঈদকে সামনে রেখে এ বছর মেলার সময় বাড়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছে নদীর তীরবর্তী চরে। হস্তশিল্প, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জার সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেত ও মাটির জিনিসপত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নানা পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খৈ, বাতাসাসহ বিভিন্ন খাবারের সমারোহ রয়েছে। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, দোলনা ও ট্রেন রাইডসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে অবগাহন করলে মানুষের পাপ মোচন হয়। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের এক অনন্য বন্ধনে মানুষকে আবদ্ধ করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার আবহ সৃষ্টি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান তাৎপর্য বহন করে।
শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের সহযোগিতায় এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা–পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, বারুণী স্নানকে কেন্দ্র করে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সিএ/এমই


