পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চললে রোজার সময় সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
রোজা পালন করার সময় শরীরকে সচল রাখতে হালকা ব্যায়াম করা উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের কিছু সময় আগে শরীরচর্চা করার সময়টাই সবচেয়ে উপযোগী। ইফতারের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করলে শরীর চাঙা থাকে এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
তবে রোজার সময় ভারী ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং নিয়মিত ব্যায়ামের রুটিনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই হালকা হাঁটাহাঁটি বা কম পরিশ্রমের শারীরিক কর্মকাণ্ড বেছে নেওয়াই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ব্যায়াম করার সময় যদি মাথা ব্যথা বা দুর্বলতা অনুভূত হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করা উচিত। কারণ রোজা রাখার সময় শরীর স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা দুর্বল থাকতে পারে।
রোজার সময় সুস্থতা বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। নিয়মিত সেহরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেহরিতে শর্করা জাতীয় খাবার বেশি রাখলে সারাদিন শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায়। অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
সেহরির মেন্যুতে ফল রাখলে তা শরীরের জন্য উপকারী। বিশেষ করে গরমের দিনে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো মৌসুমি ফল শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।
গরমের সময় দুপুরে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাতা ব্যবহার করা উচিত, কারণ ঘামে ভিজে সর্দি-কাশি হলে তা রোজা পালনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে হালকা খাবার দিয়ে শুরু করা উচিত। পানি জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করা ভালো। ধীরে ধীরে ইফতার করা এবং ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যসম্মত।
চা ও কফি পান কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব পানীয় শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। এর পরিবর্তে ঠাণ্ডা পানীয় বা পানি বেশি পান করা ভালো।
এছাড়া ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ইফতারের পর কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করলে শরীর সুস্থ রাখতে তা সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


