সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।
এ ঘটনায় রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি।’
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের ছেলে আবদুল গফফার জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তাঁরা ইসলামপুর গ্রামের একটি সরকারি জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকার ওই জমিটি তাঁর বাবা আবদুল্লাহ খানের নামে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রানীগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা ওই জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন।
আবদুল গফফারের দাবি, রোববার দুপুরে নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতঘর ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজন আমাদের জায়গা দখলের পাঁয়তারা করে আসছিলেন। এ নিয়ে থানায় আমি তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাঁরা আমাদের ঘরটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং আসবাবপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছেন। হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও রয়েছে আমাদের কাছে। নিজাম উদ্দিন হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক হাদী আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।’
সিএ/এমই


