স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রথম দিনের অভিযানে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ৩০টির বেশি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর আগে দুই দিন এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের নিজ দায়িত্বে অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য সতর্ক করা হয়।
৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সমুদ্রসৈকতে থাকা সব ধরনের অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনার তিন দিন পর আজ উচ্ছেদ অভিযানে নামেন প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলীসহ টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
প্রথম দিনে ৩৩ দোকান উচ্ছেদ
সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে গড়ে তোলা বেশ কিছু সামুদ্রিক মাছের ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ এবং অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়। জেলা প্রশাসন বালিয়াড়ি জুড়ে সারিবদ্ধভাবে দোকানগুলো ভেঙে ট্রাকে তুলে নেন শ্রমিকরা।
এরপর সুগন্ধা পয়েন্টের রাস্তার মোড়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে রাস্তার পাশে গড়ে তোলা আরও কয়েকটি অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ঝাউবাগানের ভেতরে (বালিয়াড়ি) গড়ে তোলা কয়েকটি দোকানও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার ইনচার্জ মনজু বিন আফনান। তিনি বলেন, প্রথম দিনে ৩০টির বেশি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্যান্য স্থাপনাও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
সুগন্ধা পয়েন্টের চটপটি বিক্রেতা আবদুল খালেক অভিযোগ করেন, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁর দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আয়রোজগার বন্ধ হলে পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে।
সুগন্ধা বিচ মার্কেট সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ব্যবসার অনুমতি নিয়ে শতাধিক ব্যবসায়ী বালিয়াড়িতে অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করেছেন। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানে অনুমতি নিয়েও ব্যবসা শুরু করা ব্যবসায়ীরা রেহাই পাচ্ছেন না।
সিএ/এমই


