দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবাসী সালেহ আহমদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়।
সোমবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজীটেকা (বাঁশতলা) গ্রামে তাঁর লাশ পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন।
এর আগে সিলেটের Osmani International Airport-এ মরদেহ গ্রহণ করেন Ariful Haque Chowdhury। পরে তিনি লাশবাহী গাড়ির সঙ্গে নিহতের বাড়িতে যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত ছিলেন সালেহ আহমদ। প্রবাসে তিনি আহমদ আলী নামে পরিচিত ছিলেন এবং পানির ট্যাংকার চালক হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর দুবাইয়ের Ajman শহরে পানি সরবরাহের কাজে বের হলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাঁর গাড়িতে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে গাজীটেকা গ্রামের শাহী ঈদগাহে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ হাজার টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা পরিষদ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী Ariful Haque Chowdhury বলেন, ঘটনার পর থেকেই Tarique Rahman বিষয়টি তদারকি করেছেন এবং সরকারের উদ্যোগে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সালেহ আহমদের এক ছেলে Thalassemia রোগে আক্রান্ত; তার চিকিৎসায় সহায়তা করা হবে। তাঁর স্ত্রী প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বড় ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিহত চার বাংলাদেশির মধ্যে একজনের মরদেহ ইতিমধ্যে দেশে আনা হয়েছে এবং বাকিদেরও দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। আহতদের চিকিৎসা ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
সিএ/এমই


