পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রামনাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন গোলখালী-নলুয়াবাগী সেতুর কাজ শুরু হওয়ার ছয় বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের রামনাবাদ নদীর ওপর ৩১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৫৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২২ সালের মধ্যেই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে দেখা যায়, সেতুর বেশ কয়েকটি পিলার এবং আংশিক ডেক নির্মাণ করা হলেও পুরো কাঠামো এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কিছু অংশে কাজ চললেও তা ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ ঝুলে থাকায় প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণ না হওয়ায় গলাচিপার গোলখালী ও নলুয়াবাগী এলাকার সঙ্গে পাশের উপজেলা আমতলী ও কলাপাড়ার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো নৌকানির্ভর। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষকে নদী পার হতে হয় নৌকায় করে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত তীব্র থাকায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় জরুরি রোগী নিয়ে নদীর ঘাটে এসে দীর্ঘ সময় খেয়া নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
নলুয়াবাগীর ওষুধ ব্যবসায়ী বাচ্চু বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর স্রোত খুবই প্রবল থাকে। তখন নদী পার হওয়া মানে জীবন হাতে নিয়ে চলা। অনেক সময় জরুরি রোগী নিয়ে নদীর ঘাটে এসেও খেয়া নৌকা পাওয়া যায় না। এসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেতুটির কাজ শেষ হলে কয়েক হাজার মানুষ সুবিধা পাবে।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতুটির কাজ শেষ হলে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সঙ্গে পটুয়াখালীর আমতলী ও কলাপাড়ার একাংশের মানুষের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমি সংক্রান্ত কিছু জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


