খেজুর শুধু একটি সুস্বাদু ফলই নয়, ইসলামী ঐতিহ্যে এটি বরকতময় ও গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবেও বিবেচিত। ধর্মীয় শিক্ষায় খেজুরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন হাদিসে এর গুরুত্ব ও উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের একটি অনন্য অংশ হলো গাছপালা। খেজুর গাছেও যখন ফল ধরে, তখন সেই দৃশ্য প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্য প্রকাশ করে। খেজুর দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, মানুষ যখন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তখন আল্লাহ সেই নেয়ামত আরও বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যদি তোমরা নেয়ামতের শোকরিয়া আদায় করো, তাহলে আমি তোমাদের জন্য তা বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)।
হাদিসে খেজুর গাছকে মুমিনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘গাছগাছালির মধ্যে এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে পড়ে না এবং তা হলো মোমিনদের উপমা। তোমরা জানো, সেটা কোন গাছ?’ পরে তিনি বলেন, ‘গাছটি হলো, খেজুর গাছ।’ (মুসলিম : ২৯৯৯)।
খেজুর একটি সুন্নতি খাবার হিসেবেও পরিচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুর খেতে পছন্দ করতেন এবং ইফতারের সময় খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যার কাছে খেজুর আছে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে।’ (সুনানে আবি দাউদ : ২৩৫৫)।
ইসলামী শিক্ষায় খেজুরকে বরকতময় ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সালমান ইবনে আমের (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।’ (মেশকাত : ১৮৯৩)।
খেজুর পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে ভিটামিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিঙ্কসহ নানা উপাদান রয়েছে, যা শরীরের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।
হাদিসে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুর খাওয়ার উপকারিতার কথাও উল্লেখ রয়েছে। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।’ (মুসলিম : ২০৪৭)।
ইসলামী ঐতিহ্যে ঘরে খেজুর রাখা এবং অতিথিকে খেজুর দিয়ে আপ্যায়নের কথাও উল্লেখ রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ঘরে খেজুর নেই, সে বাড়িতে কোনো খাবার নেই।’ (মুসলিম : ২০৪৬)।
সিএ/এমআর


