আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই রাষ্ট্র ও রাজনীতির মূলধারা থেকে নারীদের বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন অর্জন করা কঠিন।
বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দফতর প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৮ সালে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়, যা পরে ১৯৯৪ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে অতীতে মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদার করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও জানান, সরকার ভবিষ্যতে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই লক্ষ্য যেখানে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
সিএ/এমআর


