ফাল্গুনের শেষ দিকেও ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আবার স্বাভাবিক করা হয়। এ সময় মাঝনদীতে দুটি ফেরি আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নদী অববাহিকাজুড়ে হঠাৎ করে ঘন কুয়াশা নেমে আসে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্বও বাড়তে থাকে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং নদীপথে সামান্য দূরত্বও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না।
সকাল সাতটার পর উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া রো রো (বড়) ফেরি খান জাহান আলী এবং কে–টাইপ (মাঝারি) ফেরি বাইগার মাঝনদীতে গিয়ে দিক হারিয়ে ফেলে। ফেরি দুটি মাঝনদীতে আটকে পড়ার খবর পাওয়ার পর দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ দুই ঘাট থেকেই ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এতে যানবাহনের চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি বাড়ে এবং ঘাট এলাকায় অপেক্ষমাণ গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকে।
প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুয়াশা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলে প্রথমে মাঝনদীতে আটকে থাকা ফেরিগুলোকে নিরাপদে ঘাটের দিকে আনা হয়। পরে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে নোঙর করা ফেরিগুলো যানবাহন নিয়ে আবার চলাচল শুরু করে। বিগত এক সপ্তাহেও ঘন কুয়াশার কারণে এই নৌপথে দুই দিন কয়েক ঘণ্টা করে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, ঈদের আগে অনেক ব্যবসায়ী ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। সারা রাত নদীপথে কোনো সমস্যা না থাকলেও সকাল সাতটার পর হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসে। তখন নদীপথে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের নিয়ে ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ফাল্গুনের শেষ দিকে এমন কুয়াশা হবে, তা ভাবিনি।’
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুয়াশা কেটে গেলে ফেরি চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হয়। এতে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
সিএ/এমই


