জামালপুর শহরের একটি বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জামালপুর পৌর এলাকার ফুলবাড়িয়া গ্রামে। নিহত তাহমিনা আক্তার তানিয়া দুই সন্তানের জননী।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহমিনার স্বামী হোসেন তাইফুর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি সাধারণত রাজধানীতে বসবাস করলেও তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে জামালপুরের বাড়িতে থাকতেন। বৃহস্পতিবার তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং সন্তানদের নানীর বাড়িতে রেখে যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তাহমিনা ও তাইফুরের বিয়ে হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাহমিনাকে মারধর করা হয় এবং এতে তার মৃত্যু ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মৃত্যুর পর ঘটনাটি গোপন করতে বিছানায় আগুন লাগিয়ে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ধোঁয়া দেখে আশপাশের লোকজন বাড়ির দিকে এগিয়ে যান এবং ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে দেখা যায় বিছানার ওপর মরদেহ পড়ে আছে এবং আগুন জ্বলছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামী হোসেন তাইফুরকে আটক করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।”
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “এখনো মামলা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।”
সিএ/এমআর


