চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক জিরা চাষ করে আলোচনায় এসেছিলেন কৃষক মুহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন। ফুলে ভরে ওঠা খেত দেখে আশাবাদী ছিলেন ভালো ফলনের। কিন্তু ফসল তোলার আগমুহূর্তে হঠাৎ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পুরো খেত নষ্ট হয়ে যায়। তিন মাসের পরিশ্রম বিফলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে আর জিরা চাষ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রহমতনগর এলাকায় ইমতিয়াজের খেত ঘুরে দেখা যায়, জিরাগাছের পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো লালচে মরিচা দাগে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে গেছে। এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতাংশ জমিতে জিরা আবাদ করেছিলেন তিনি। বীজ সরবরাহ করেছিল উপজেলা কৃষি বিভাগ। একইভাবে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল গ্রামের আরেক কৃষককেও বীজ দেওয়া হলেও তাঁর খেত চারা হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষক ইমতিয়াজ বলেন, ‘আমি আর জিরা চাষ করব না। তিন মাস পরিশ্রম করেও এ ফসলটি টিকাতে পারিনি। ফসল তোলার সময়ে হঠাৎ জিরাগাছের পাতায় লালচে মরিচা রোগ দেখা দেয়। অনেকটা অতিরিক্ত তাপে পুড়ে যাওয়ার মতো। রোগ নির্ণয়ের অনেক চেষ্টা করেছি। কৃষি কর্মকর্তারা যে ওষুধ দিতে বলেছেন, সেটির প্রয়োগ করেছি। কিন্তু কোনোভাবেই পাতা পুড়ে যাওয়া রোগ সারাতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরু থেকে ফুল আসা পর্যন্ত আমার খেতটি অত্যন্ত ভালো ছিল। দেখে ভালো লাগত। ভেবেছিলাম জিরার ভালো ফলন পাব। কিন্তু খেত থেকে মাত্র এক কেজি জিরা পেয়েছি। জিরা চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক কৃষক, আশপাশের মানুষ, জিরাখেত দেখতে আসত। তখন খুব ভালো লাগত। কিন্তু আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় এখন অনেক কষ্ট লাগছে।’
শীতের ঘাটতিকেই এ ক্ষতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন ইমতিয়াজ। তাঁর মতে, জিরা মূলত শীতকালীন ফসল। উত্তরাঞ্চলে শীত আগে শুরু হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় বলে সেখানে জিরা চাষের উপযোগিতা বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক কম শীত ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে গাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় এটিই ছিল প্রথম পরীক্ষামূলক জিরা চাষ। পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে এ অঞ্চলে জিরা উৎপাদন সম্ভব কি না, তা যাচাই করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি, লাউ বেগুন ও বিটরুট চাষে সফলতা পেয়েছে কৃষি বিভাগ, যা পরে বিস্তৃত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘হঠাৎ অজ্ঞাত রোগে ইমতিয়াজের জিরাখেত আক্রান্ত হয়ে পড়ে। জিরা চাষের গাইডলাইন অনুসারে সম্ভাব্য রোগের নিয়ম মেনে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবে জিরাখেত নষ্টের হাত থেকে বাঁচানো যায়নি। রোগের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা রোগ নির্ণয় করে সে রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায় বলে দেবেন।’
তিনি জানান, আপাতত আগামী বছর এ এলাকায় জিরা চাষ করা হবে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নতুন গাইডলাইন না পাওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা পরবর্তী সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।
সিএ/এমই


