রাজধানী ঢাকায় বায়ুর মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকলেও পাশের জনপদ সাভারে দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বুধবার ( ৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ছিল ২৭০। বিশ্বের ১২৩টি নগরীর মধ্যে এ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। একই সময়ে সাভারের একিউআই পৌঁছায় ৬৪০-এ, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ মাত্রারও অনেক ওপরে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান IQAir বিশ্বের বিভিন্ন শহরের তাৎক্ষণিক বায়ুমানের তথ্য প্রকাশ করে থাকে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, একিউআই ৩০০ ছাড়ালেই তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই হিসাবে সাভারের পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, সাভারের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০২৫ সালে এলাকাটিকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই ঘোষণার পর সাভার উপজেলায় সেপ্টেম্বর (২০২৫) থেকে টানেল ও হাইব্রিড হফম্যান কিলন ছাড়া সব ধরনের ইটভাটায় ইট পোড়ানো ও প্রস্তুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ সৃষ্টি করতে পারে—এমন নতুন শিল্পকারখানার জন্য অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানও স্থগিত করা হয়।
তবে বাস্তবে দূষণ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ আবদুস সালাম বলেন, ‘সাভারকে “ডিগ্রেড এয়ারশেড” ঘোষণার পর আমরা একে শুভ উদ্যোগ বলেছিলাম। কিন্তু কথা বলার চেয়ে কাজটি করে দেখানোর পরামর্শও দিয়েছিলাম। বাস্তবে গত দেড় বছরে পরিবেশ উন্নয়নে অনেক কথা হয়েছে। কাজ হয়েছে কম।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘বায়ুদূষণ পরিস্থিতি যে এমন—তা জানাতেই সব অংশীজনকে সজাগ করার জন্য ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বায়ুর মানের খুব উন্নতি হয়নি। এখন সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাভার উপজেলায় বর্তমানে ১০৬টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বাতাস প্রবাহিত হয়। ফলে সাভারের দূষিত বায়ু ঢাকার দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজধানীর বায়ুমান আরও খারাপ হয়। এ প্রেক্ষাপটেই সাভারকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণার পরপরই তিন মাস অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত মানহীন ইটভাটা বন্ধ ছিল। তারপর অবশ্য অনেকগুলো চালু হয়েছে। এটা ঠিক, সবকিছু যথাযথভাবে মেনে চলা যায়নি। তবে সাভারের এই ভয়ানক দূষণের পেছনে ইটভাটা ছাড়াও অন্য কারণ থাকতে পারে। আমরা এটি এখন খুঁজে দেখার চেষ্টা করব।’
সিএ/এমই


