রমজান মাস সংযম ও ইবাদতের সময় হলেও সুস্থ থাকা এ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নামাজের রুকু, সিজদা, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা মেঝেতে বসা-ওঠার জন্য শরীরের জয়েন্ট ও মাংসপেশির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা প্রয়োজন। এ কারণে রমজানের আগে ও চলাকালীন ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিজনিত সমস্যা বাড়ে। দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী হাঁটু, কোমর ও নিচের পিঠের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভোগেন। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কোনো না কোনো জয়েন্ট বা মাংসপেশির সমস্যায় আক্রান্ত, যা দৈনন্দিন কাজকর্ম ও ইবাদতে বাধা সৃষ্টি করে।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস বা দীর্ঘমেয়াদি কোমরব্যথায় হাঁটু ও কোমরের নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়। অনেকের জন্য রুকু বা সিজদায় যাওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে। শুধু ব্যথানাশক ওষুধে সাময়িক উপশম মিললেও স্থায়ী সমাধান পেতে হলে জয়েন্টের গতিশীলতা, মাংসপেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বাড়ানো জরুরি।
ফিজিওথেরাপি এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত থেরাপিউটিক ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, শক্তিবর্ধক অনুশীলন ও কোর স্ট্যাবিলিটি ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা ও নামাজ আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সঠিক দেহভঙ্গি ও জীবনধারা সম্পর্কে সচেতনতা দীর্ঘমেয়াদে উপকার বয়ে আনে।
রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও পানি না পান করে থাকার ফলে শরীরে ক্লান্তি বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই জয়েন্ট বা মাংসপেশির সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান এবং ক্যালসিয়াম ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জরুরি।
যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি, তাঁদের কিছু খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা জয়েন্ট সচল রাখতে সহায়ক। ব্যথা বাড়লে গরম সেঁক নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


