বিশ্বজুড়ে পানির সংকট মোকাবিলায় বর্জ্য পানি পুনঃব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে ড্রেন বা ময়লা পানি পরিশোধন করে ব্যবহারের প্রশ্নে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, পানির স্বাদ, রং ও গন্ধ—এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের ওপর তার পবিত্রতা নির্ভর করে। যদি পরিশোধনের মাধ্যমে পানির এই বৈশিষ্ট্যগুলো থেকে নাপাকির প্রভাব সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়, তবে তা পবিত্র বলে গণ্য হবে।
মহানবী (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই একে অপবিত্র করতে পারে না।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৬)। তবে যদি নাপাকির কারণে পানির স্বাদ, গন্ধ বা রং পরিবর্তিত হয়, তখন তা অপবিত্র হয়ে যায়।
শাইখ ইবনে উসাইমিনের মতে, আধুনিক পদ্ধতিতে পানি এমনভাবে পরিশোধন করা সম্ভব, যেখানে নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট থাকে না। সে ক্ষেত্রে ওই পানি অজু, গোসল ও পানাহারের জন্য ব্যবহার করা বৈধ।
তবে যদি পরিশোধনের পরও পানিতে নাপাকির সামান্য প্রভাব থেকে যায়, তাহলে তা দিয়ে ইবাদত করা যাবে না। ইমাম নববির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নাপাকির কারণে পানির বৈশিষ্ট্য বদলে গেলে তা অপবিত্র হওয়ার বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।
এ ধরনের পানি কৃষিকাজ বা সেচের কাজে ব্যবহার করা গেলেও ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। একই সঙ্গে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যদি পানি ক্ষতিকর হয়, তবে তা পান করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
সিএ/এমআর


