নামাজে তাকবিরে তাহরিমার পর সানা সাধারণত নিম্নস্বরে পড়ার নিয়ম রয়েছে। এ কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ভুলবশত কেউ যদি সানা উচ্চস্বরে পড়ে ফেলেন, তাহলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?
ইসলামী ফিকহবিদদের মতে, সানা অনুচ্চস্বরে পড়া সুন্নত। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে জোরে সানা পড়া সমীচীন নয়। তবে কেউ যদি ভুল করে উচ্চস্বরে সানা পড়ে ফেলেন, তাহলে তার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। সাহু সিজদা ছাড়াই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমার পর সানা পড়াকে সুন্নতে মুআক্কাদা হিসেবে গণ্য করা হয়। ইমাম, মুক্তাদি এবং একাকী নামাজ আদায়কারী—সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
তবে জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ বিধান রয়েছে। কোনো মুক্তাদি যদি ইমামের সানা শেষ হওয়ার পর জামাতে শরিক হন এবং ইমাম উচ্চস্বরে কিরাত তিলাওয়াত করতে থাকেন, তাহলে তিনি সানা না পড়ে ইমামের তিলাওয়াত শুনবেন। আর যদি ইমাম নিম্নস্বরে কিরাত পড়েন, তাহলে মুক্তাদি সানা পড়তে পারবেন।
এ বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা উল্লেখ করে বলা হয়, যখন কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে তা শোনা উচিত। তাই ইমামের কিরাত চলাকালে মুক্তাদির জন্য তা শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
আবার কেউ যদি রুকুর সময় জামাতে শরিক হন, তাহলে সানা পড়ার জন্য সময় ব্যয় না করে সরাসরি ইমামকে অনুসরণ করে রুকুতে চলে যেতে হবে। অন্যথায় পুরো রাকাত মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সানার দোয়ার অর্থ হলো আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা এবং তাঁর প্রশংসা করা। ইসলামী শিক্ষায় এটি নামাজের সূচনাপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৪৩
সিএ/এমআর


