পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা বন্দরের দেবীপুর এলাকায় একটি আলুবোঝাই ট্রাক পার হওয়ার সময় বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
সেতুটি ভেঙে পড়ার পর মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন আটকা পড়ে। এতে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী এবং পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের একটি স্থায়ী সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাশের পুরনো বেইলি সেতু দিয়েই যান চলাচল করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।
এলাকার বাসিন্দা সুমন বেপারী জানান, সেতু ধসে পড়ার ফলে আঞ্চলিক মহাসড়কের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দূরপাল্লার যাত্রী ও স্থানীয়দের গাড়ি থেকে নেমে খেয়া নৌকায় খাল পার হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনও বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসও এ পথ ব্যবহার করে থাকে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, “বেইলি সেতুটি পুরনো। এর সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। কিন্তু ট্রাকটিতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি ওজনের আলু থাকায় সেতু ভেঙে পড়ে। এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।”
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. রাসেল। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক পার হওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে পড়েছে। এতে আঞ্চরিক মহাসড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে বিধ্বস্ত সেতুটি দ্রুত সংস্কার ও বিকল্প ব্যবস্থার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে।”
সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিকল্প ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
সিএ/এমই


