ইসলামের ইতিহাসে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার জন্য সুপরিচিত এক সাহাবি হলেন মুগিরা ইবনে শুবা (রা.)। তিনি ছিলেন নবীজির ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের একজন এবং গুরুত্বপূর্ণ বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী।
বর্ণনা অনুযায়ী, নবীজিকে দাফনের সময় কবর থেকে সর্বশেষ বেরিয়ে আসা ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তিনি নিজেই বলেন, ‘নবীজিকে কবরে দাফন করার পর তাঁর কবর থেকে সবার শেষে বেরিয়ে আসা লোকটি ছিলাম আমি। সবাই কবর থেকে বেরিয়ে আসছিল, তখন ইচ্ছা করে কবরে আমার হাতের আংটি ফেলে আসি। এরপর আলিকে বলি, ‘আবুল হাসান, কবরে আমার আংটি পড়ে গেছে?’ তিনি বলেন, ‘কবরে নেমে নিয়ে আসুন।’ আমি তখন নিচে নেমে শেষবারের মতো নবীজির কাফন ছুঁয়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।’
মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) সাকিফ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন এবং খন্দকের যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী, সাহসী ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি। ইয়ারমুক যুদ্ধে তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৌশল প্রয়োগে তাঁর দক্ষতা ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। হজরত ওমর (রা.) তাঁকে বাহরাইনের প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োগ দিলেও স্থানীয়দের আপত্তিতে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এক ঘটনায় দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হলে তিনি কৌশলের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করেন এবং অভিযোগকারীর মিথ্যাচার প্রকাশ করেন।
ইতিহাসে চারজন অত্যন্ত বিচক্ষণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে তাঁকেও গণ্য করা হয়। অন্যরা হলেন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, আমর ইবনুল আস ও জিয়াদ ইবনে আবিহি।
পরবর্তীতে তিনি কুফার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানকার জামে মসজিদের সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর ৫০ হিজরিতে কুফায় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭০ বছর। তাঁর বর্ণিত বহু হাদিস ইসলামী জ্ঞানভান্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে।
সিএ/এমআর


