পান্তাভাতকে অনেকে পয়লা বৈশাখের খাবার হিসেবে ভাবলেও বাস্তবে এটি বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন ও দৈনন্দিন খাদ্য। গ্রামীণ জীবনে সকাল বা দুপুরের খাবার হিসেবে পান্তার প্রচলন বহু পুরোনো, যা আজও সংস্কৃতির অংশ হয়ে রয়েছে।
গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পান্তার সম্পর্ক গভীর। খেতে কাজ করা কৃষকেরা নির্দিষ্ট সময়ে মাঠের আল ধরে বসে পান্তা, লবণ, মরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে খাবার গ্রহণ করতেন। এই সময়টিকে অনেকে ‘পান্তাবেলা’ নামে চিনতেন।
বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থেও পান্তাভাতের উল্লেখ পাওয়া যায়। চণ্ডীমঙ্গল, পদ্মাপুরাণসহ নানা রচনায় বাসি ভাত পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার বর্ণনা রয়েছে, যা পান্তার ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
পান্তা শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ার ফলে খাবারের উপকারী উপাদানগুলো আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে শরীরের পুষ্টি বাড়ে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, পান্তাভাতে উপকারী অণুজীব ও মেটাবলাইট তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম হারে বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পান্তাভাত গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক এবং সহজপাচ্য হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি উপযোগী খাবার।
তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে পান্তা থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে প্রস্তুত করা জরুরি।
সিএ/এমআর


