তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরি। চলতি সপ্তাহে চলমান মামলার শুনানিতে প্রধান বাদী কেজিএম নামের এক তরুণীর ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের অভ্যাস ও মানসিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে তাকে কঠিন জেরার মুখে পড়তে হয়।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, বাদী একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেন। এ বিষয়টিকে মোসেরি ‘প্রবলেমেটিক ইউজ’ বা সমস্যাযুক্ত ব্যবহার হিসেবে স্বীকার করলেও একে ‘আসক্তি’ হিসেবে মানতে রাজি হননি। তার যুক্তি, ক্লিনিক্যাল আসক্তি আর দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
মোসেরি বলেন, কোনো ব্যবহারকারী দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকলেই তাকে আসক্ত বলা যায় না। বরং ব্যবহারটি ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘আসক্তি’ শব্দটির একটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা রয়েছে, যা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ইনস্টাগ্রামের নকশা ও অ্যালগরিদম কি তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখার জন্য পরিকল্পিত। তারা দাবি করেন, এ ধরনের নকশা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মোসেরি জানান, প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।
এই মামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বৃহত্তর আইনি বিতর্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এমআর


