বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ার পর আদালতের এজলাসে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের আইনজীবীরা মহানগর আদালত বর্জন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকের অপসারণ এবং তালুকদার ইউনুসের জামিন বাতিলের দাবি জানান।
তালুকদার ইউনুস সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। তার জামিনের পরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ হন। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বানে মঙ্গলবার তারা মহানগরের সংশ্লিষ্ট আদালত বর্জন করেন। বেলা ১১টার দিকে আদালত বর্জনকারীরা আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া এই আদালত বর্জনের কারণে বিচারপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মো. ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি জামিন অযোগ্য। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বিচারক রহস্যজনক কারণে জামিন দেন। এছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা মহানগর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তালুকদার ইউনুসকে জামিন প্রদানকারী বিচারক অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহর অপসারণ ও জামিন বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকাল মহানগরের সকল আদালত বর্জন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একদল আইনজীবী অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রবেশ করে হট্টগোল সৃষ্টি করে। তারা আদালতের কক্ষে বিচারপ্রার্থীদের বসার জন্য রাখা চেয়ার-টেবিল উল্টে দেয়। এই ঘটনার সিসি ক্যামেরার ভিডিও মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন আইনজীবীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে লিংকন বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
মহানগর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন আলম জানান, তারা তালুকদার ইউনুসের জামিনের বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু বিচারক জামিন আদেশ দেওয়ায় তাদের কোন কিছু করার সুযোগ ছিল না।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বরিশালে তালুকদার মো. ইউনুসসহ উল্লেখযোগ্য কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বরিশাল-৫ আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন।
সিএ/এএ


