মাদারীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমিরাবাদ ইউআই স্কুলের পেছনে বলরাম মন্দির এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষ অন্তত ২০টি ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার রাতেও শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জেলা ও শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়ারচর এলাকায়ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষের পর এলাকার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতা কামরুল ইসলাম ওরফে তুষু খন্দকারের সঙ্গে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কে এম তোফাজ্জল হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের ধরে পূর্ব আমিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিক কাওসার হোসেন এবং তাঁর স্ত্রীকে গত রোববার আটকে মারধর করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ডিসি ব্রিজ, কলেজ রোড ও পূর্ব আমিরাবাদসহ আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন উভয় পক্ষের কিশোররা বলরাম মন্দির এলাকায় একে অপরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘মন্দিরের সামনে বোমাবাজি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ দেখে আমরা সাধারণ মানুষ খুব ভয় পেয়েছি। এক ঘণ্টা ধরে চলেছে এ সংঘর্ষ। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’
নয়ারচর এলাকায়ও পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় তিনটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কিশোর গ্যাংগুলো কয়েকটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে। তারা চাইলে স্থানীয়ভাবে এ ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে পারে। পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সোমবার রাতে দুটি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
সিএ/এমই


