রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর পর বুধবার দুপুরে রংপুর নগরের একটি হোটেলের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন সাবেক রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হকও তাঁর পাশে ছিলেন।
হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর তাঁকে দায়িত্বপালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। অফিসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরাদ্দকৃত গাড়িতে উঠতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে ‘রাজনৈতিক ট্যাগ’ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপসারণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, উপাচার্যসহ বিভিন্নজনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে আনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হারুন অর রশিদ উল্লেখ করেন, এসব ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী উপাচার্য শওকাত আলী।
২০২৪ সালের নভেম্বরে এক বছরের জন্য রেজিস্ট্রার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান হারুন অর রশিদ। পরবর্তীতে ৫ নভেম্বর তাঁকে আরও এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ১৮ জন কর্মকর্তার সনদ জালিয়াতি বিষয়ক তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং পাঁচ শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়ে আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কার্যক্রমের কারণে উপাচার্যসহ একটি গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হন তিনি।
সাবেক রেজিস্টার দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তকে দুর্বল করার জন্য তাঁকে অপসারণ করা হয়েছে।
উপাচার্য শওকাত আলী প্রথম আলোকে বলেন, রেজিস্ট্রারের নিয়োগ শর্তে গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা বলা ছিল। কিন্তু তিনি নিয়োগ শর্ত ভঙ্গ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যতগুলো তদন্ত কমিটি হয়েছে, সব প্রতিবেদন সিন্ডিকেটের আগেই বাইরে গেলে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিব্রত হবেন। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরও তাঁর বিরোধিতা করেছে। তাই জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে সবার মতামত নিয়ে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি দুর্নীতির মধ্যে ইনভলভ নই। কোনো প্রমাণ থাকলে সেটার মুখোমুখি হব।’
সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশিদ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো:
১. শহীদ আবু সাঈদ ও সহপাঠী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলায় জড়িতদের বিচারের নিশ্চয়তা ও যথাযথ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া।
২. শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন হয়রানি, জালিয়াতি করে চাকরি গ্রহণসহ সব তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং চলমান তদন্তগুলোর প্রতিবেদন অবিলম্বে জমা দেওয়া ও পুনঃ তদন্ত।
৩. সাবেক ও বর্তমান উপাচার্য ও তাঁদের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি, অনিয়ম, নিয়োগ ও পদোন্নতির বাণিজ্য বন্ধে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় তদন্ত কমিটি গঠন।
৪. ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্রাকসু নির্বাচন আয়োজন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমিতি ও ইউনিয়ন চালু করা।
৫. বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ–বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা।
সিএ/এমই


