ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া) আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকলেও নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ কমেনি। বরং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলেরই ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। ভোটের মাঠ দখলে নিতে দুজনই দিন–রাত প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এই আসনে অতীতে ১২টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ছয়বার আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এবার সেই দল না থাকায় ভোটের সমীকরণ নতুন করে গড়েছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল আলোচনার কেন্দ্রে এখন বিএনপির প্রার্থী এমরান সালেহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর। সাতজন প্রার্থী থাকলেও এই দুজনকে ঘিরেই ভোটারদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সালমান ওমর। এ ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টি, লেবার পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীই প্রচারণায় এগিয়ে আছেন। গত ১৬ জানুয়ারি ধোবাউড়ার এরশাদ বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এক কর্মী নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এ ঘটনার পর ধানের শীষের প্রার্থী এমরান সালেহ চাপের মুখে পড়েন বলে মনে করছেন ভোটাররা। এরপর থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে তিনি জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির পদ থেকে বহিষ্কৃত হলেও সালমান ওমর মাঠ ছাড়েননি; বরং তিনি গ্রামেগঞ্জে গণসংযোগ ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোট টানার চেষ্টা করছেন।
গোবরাকূড়া স্থলবন্দরের কয়লাশ্রমিক ইদ্রিস আলী বলেন, “আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি বন্দরটি সচল রাখবেন, যাতে সারা বছর কাজ থাকে।” আবার অনেক ভোটার মনে করছেন, আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকলেও তাদের সমর্থক ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে যাবে, জয় সেদিকেই ঝুঁকবে।
হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “যিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবেন, তাকেই ভোট দেব।” কড়ইতলী এলাকার আবদুল জব্বার (৭৭) বলেন, “শান্তি আর উন্নয়ন চাই। মানুষের উপকার হবে—এমন প্রার্থীই আমাদের পছন্দ।”
বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ দাবি করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তাঁর ভোটে বড় প্রভাব পড়বে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ অবাধে অর্থ ছড়াচ্ছেন এবং বিষয়টি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি অবহেলিত গারো পাহাড়ের পাদদেশের মানুষের উন্নয়নের কথা বলছি, আলোকিত জনপদ গড়তে চাই।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে নানা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, মানুষ নিরাপদে ভোট দিতে পারুক।” তিনি আরও বলেন, “এবার মানুষ দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবেন।”
এদিকে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম মনে করছেন, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বিভাজনের ফলে তাঁর অবস্থান শক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে কাজ করব এবং হালুয়াঘাটকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার চেষ্টা করব।”
সিএ/এমই


