বাঙালির খাদ্যতালিকায় মাছ একটি অপরিহার্য অংশ। স্বাদ ও পুষ্টিগুণ—দুই দিক থেকেই মাছের গুরুত্ব অনেক। উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এই কারণে অনেকেই একসঙ্গে বেশি মাছ কিনে ফ্রিজ বা ফ্রিজারে সংরক্ষণ করেন। তবে মাছ কত দিন পর্যন্ত নিরাপদভাবে রাখা যায়, সে বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। সঠিক পদ্ধতি না মানলে স্বাদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
মাছ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাছের টুকরাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে এয়ারটাইট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে সিল করে রাখা উচিত। এতে বাতাস ঢুকতে পারে না এবং মাছ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। বরফযুক্ত ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখলে মাছ কিছুটা বেশি সময় টাটকা থাকে।
সাধারণভাবে তাজা মাছ, চিংড়ি বা অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার রেফ্রিজারেটরে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা নিরাপদ। বড় আকারের মাছ যেমন টুনা, স্যামন বা ট্রাউট তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে ম্যাকারেল বা সার্ডিনের মতো তৈলাক্ত মাছ তিন দিনের বেশি ফ্রিজে না রাখাই উত্তম।
যদি দ্রুত রান্নার পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে মাছ ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা ভালো। ফ্রিজারে রাখার আগে ফ্রিজার পেপার বা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে ভালোভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে। রান্নার আগে ধীরে ধীরে বরফ গলানো সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
রান্না করা মাছও ফ্রিজে রাখা যায়, তবে তা দুই থেকে তিন দিনের বেশি নয়। একবার মাছ গলে গেলে তা আবার ফ্রিজে জমিয়ে রাখা উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ভালো সংরক্ষণের শুরু ভালো মাছ কেনার মধ্য দিয়েই। তাজা মাছের রং উজ্জ্বল, গন্ধ স্বাভাবিক এবং গঠন টানটান থাকে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে মাছ নিরাপদ ও পুষ্টিকরভাবেই খাওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


