ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে যখন মাঠের লড়াই ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মাঠের বাইরের একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে ইরানকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা জটিলতায় দেশটির বিশ্বকাপ প্রতিনিধিদলের একটি অংশ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে করা আপিলের পর ইরানের প্রতিনিধি দলের চার সদস্য শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পেলেও বাকি ১১ জন এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। এতে দলটির প্রশাসনিক ও সহায়ক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান অভিযোগ করে, তাদের জাতীয় ফুটবল দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকরুম স্টাফকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রবেশ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান ইতোমধ্যেই তাদের বিশ্বকাপ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ভিসা না পাওয়া ১৫ সদস্যের মধ্যে ১০ জন মেক্সিকোতে পৌঁছে পুনরায় আবেদন করেন। সেই আবেদনের পর চারজন অনুমোদন পেলেও ছয়জনের আবেদন আবারও প্রত্যাখ্যাত হয়।
ভিসা পাওয়া সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের একজন টেকনিক্যাল বিশ্লেষক এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিভাগের দুই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে পুনরায় আবেদন করেও অনুমতি পাননি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ, ফেডারেশনের এক সহ-সভাপতি, দলের দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, একজন মিডিয়া কর্মকর্তা এবং একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আরও একজন মিডিয়া কর্মকর্তা প্রথমবার আবেদন বাতিল হওয়ার পর নতুন করে আবেদন করেননি।
বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচ নির্ধারিত রয়েছে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর একই শহরে ২১ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ ইরানি সমর্থকদের জন্য বরাদ্দকৃত গ্রুপ পর্বের টিকিট কোটাও বাতিল করেছে বলে জানা গেছে। তবে ফিফা জানিয়েছে, বৈধ উপায়ে ইরানি সমর্থকদের ম্যাচে উপস্থিতির সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা কাজ করছে।
এর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত কিছু শর্ত ও দাবি ফিফার কাছে উপস্থাপন করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। আলোচনায় ছিল নিরাপত্তা, কর্মকর্তা অংশগ্রহণ এবং ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয়ও।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বাধা নেই, তবে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিবেচনায় কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা বিধিনিষেধ কার্যকর হতে পারে।
এই ইস্যু নতুন নয়। এপ্রিল মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসেও ইরানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য অংশ নিতে পারেননি।
ঘটনার পর ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন, আয়োজক দেশের দায়িত্বের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যোগ্য দল, কর্মকর্তা ও রেফারিদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানের ঘটনা এই দায়িত্বের পরিপন্থী। ফুটবলের সার্বজনীনতার প্রশ্নে ফিফার কোনো আপস করা উচিত নয়।’
সিএ/এমই


